Windows

ads

Header Ads

ad728

ইসলামী ভ্রাতৃত্ব বন্ধন অটুটরাখার একমাত্র নিদর্শন হচ্ছে সালাম।

 ইসলামী ভ্রাতৃত্ব বন্ধন অটুটরাখার একমাত্র নিদর্শন হচ্ছে সালাম।

তাই আমাদের ভিতর সালামের ব্যাপক প্রচলন করা উচিৎ।

  • রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা রাস্তায় উপবিষ্ট থাকবে তাদেরকে রাস্তায় গমনকারী ব্যক্তি সালাম দেবে।

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু  বর্ণনা করেন  তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পূর্ণ ঈমানদার হবেনা। ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
আর ততক্ষণ পর্যন্ত তোমরা পূর্ণ ঈমানদার হতে পারবেনা,যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে (পরস্পর কে) ভালোবাসবে।
আমি কি তোমাদের এমন এক জিনিসের সন্ধান দিবো না,যা তোমাদের প্রতিপালন করলে পারস্পরিক ভালোবাসা সৃষ্টি করবে?
আর টা হলো তোমরা তোমাদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে সালামের প্রচলন করো।
(সহিহ মুসলিম ও বুখারী শরীফ)

বুখারী শরীফের অপর এক বর্ণনায় এসেছে যে, হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
রাস্তায় গমন কালে গমনকারী উপবিষ্ট ব্যাক্তিকে সালাম করবে, ছ ছোটরা বড়োদের কে সালাম দিবে আর বরোড়া ছোটদের সালাম দিবে।
(সহীহ মুসলিম ও বুখারী শরীফ)

উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা: নিশ্চয় ইসলাম পরস্পর পরস্পরের মধ্যে
ভালোবাসা সৃষ্টি মিল বন্ধন কারি ও স্থিতশীলতার  ধর্ম।
আর এর একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে সালাম প্রদান করা ।
রাস্তায় বসা ব্যাক্তিকে গমনকারী ব্যক্তি সালাম দিবেন।
ছোটরা বড়োদের কে সালাম দিবেন।
ছোটরা বড়োদের সম্মান ও শ্রদ্ধা করবে আর বড় রা ছোটদের স্নেহ ও ভালোবাসবে।
কারন, ইসলাম বলে তোমরা তোমাদের মধ্যে যারা বড় তাদেরকে সম্মান করো ও তাদের প্রতি স্নেহশীল হও। তাই যখন ছোটরা বড়োদের কে সালাম দিবে তখন তারা তাদের মধ্যে শ্রদ্ধাবোধ তৈরী হবে আর তার মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হিসেবে সমাজে গড়ে উঠবে।
আর বড় রা ছোটদের সালাম দিতে পারেন কারন তার মাধ্যমেই কেবল ছোটরা শিখতে পারে কিভাবে বড়োদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া যায়।
আর বড়োদের সর্বদা উচিৎ ছোটদের প্রতি স্নেহের হাত বাড়িয়ে দেওয়া তাতে করে একে অপরের প্রতি এক অটুট মিল বন্ধন সৃষ্টি হবে।

🖕🖕একজন মুসলমান ভাই এর উপর অপর মুসলমান ভাইয়ের হক ছয়টি
 (৬) টি‌।

🖕হাদীস:
عن ابي هريرة رضي الله تعالي عنه قال رسول الله صلي الله عليه وسلم للمومن علي المومن ست خصال يعوده اذا مرض و يشهده اذا مات و يجيبه اذا دعاه و يسلم عليه اذا لقيه ويشمته اذا عطس و ينصح له اذا غاب او شهد(متفق عليه)
অনুবাদ:
 হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত।
তিনি বলেন,
হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন,  একজন মুমিনের প্রতি অন্য মুমিনের ছয়টি(হক) কর্তব্য রয়েছে।
যথা-
১.যখন সেই রোগাক্রান্ত হবে,তখন তার সেবা করবে।

(২) যখন সে মৃত্যুবরণ করবে, তখন তার জানাজায় উপস্থিত হবে।
(৩)যখন সে আহ্বান করবে, তখন তার আহবানে সাড়া দিবে।
(৪) যখন তার সাথে সাক্ষাৎ হবে, তখন তাকে সালাম দিবে।
(৫) যখন সে হাঁচি দিবে, তখন তার হাঁচির জবাব দিবে।

(৬) উপস্থিত অনুপস্থিত সর্বাবস্থায় তার মঙ্গল কামনা করবে।

শিক্ষা:

🖕اذا دعاه
এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে,
যখন কোনো মুসলমান ভাই শরীয়তের বিধান লঙ্ঘন না হয়।
 এমন কাজে আহ্বান করেন তার ডাকে সাড়া দেওয়া।

🖕و يسلم عليه اذا لقيه
এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে,
যখন কোনো মুসলমান ভাইয়ের সাথে দেখা হবে, তাকে সালাম দিবে।
বড় ছোট কে দিবে, ছোট বড় কে দিবে।
এর মাধ্যমে উভয়ের ভিতর তথা ছোটরা বড়দের সালাম প্রদানের মাধ্যমে শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।
আর বড়রা ছোটদের সালাম প্রদানের বিনিময়ে ছোটদের প্রতি স্নেহাশীল ও আন্তরিক হবে।

,
🖕و ينصح  اذا غاب او شهد-
এর মর্মার্থ হচ্ছে:-রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস দ্বারা উদ্দ্যেশ্য মুসলমান গণকে পরস্পর ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করা এবং মুসলিম ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা একজন মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের প্রতি দায়িত্ব হচ্ছে তার কল্যাণ সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করা। চাই সে উপস্থিত থাক আর অনুপস্থিত থাক ।
এখানে আরও উল্লেখ্য যে উপস্থিতদের কল্যাণের অর্থ হচ্ছে তাকে শরয়ী বিধান পালনে উৎসাহিত করা।
চাই তা  (الامر با المعروف) তথা সৎ কাজের আদেশ কিংবা (و النهي عن المنكر )বা অকল্যাণ থেকে বিরত রাখা হোক।  অনুপস্থিতিতেই কল্যাণ কামনার অর্থ হচ্ছে তার বা তার পরিবারের ক্ষতি সাধন না করা। গীবত বা দোষ ত্রুটি সমাজের কাছে তুলে না ধরা ইত্যাদি।

🖕🖕আমরা হাদীসের আলোকে নিজেদের জীবন কে যেন পরিবর্তন করে ইসলামের ছায়াতলে আসতে পারি।
আল্লাহ আমাদের সকলকে তৌফিক দান করুন।
আমীন।

মিশকাতুল মাসাবিহ- সালাম অধ্যায়।

No comments:

“ একজন শিক্ষকের আত্মকথা “

  “ একজন শিক্ষকের আত্মকথা “ শিক্ষকতা এমন একটি পেশা যে পেশাটিতে প্রায় সবাই অনিচ্ছাত্ত্বেই প্রবেশ করে । কারণ, স্কুল-কলেজের গন্ডি পেরিয়ে সবাই ...

Post Bottom Ad

ads
Powered by Blogger.