শশী লজের ভাষ্কর্য
![]() |
| চিত্রঃ শশী লজের ভাষ্কর্য ময়মনসিংহ মহিলা টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার" |
যে জাতি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে নারীর অনাবৃত দেহের ভাস্কর্য মেনে নিতে পেরেছে - সেই জাতি নারীর ধর্ষন মেনে নিতে পারছে না-
আমার কাছে এইটা একটা হাস্যকর ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই না।
লৌকিকতা পরিহার করুন। বাস্তব মুখী আন্দোলন করুন।
দেখবেন সফলতা পেতে দেরী হবে না।
আমরা বাংলাদেশে বাস করি।যে দেশের প্রায় নব্বই ভাগ মানুষ মুসলিম। এদেশের রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম। এরকম একটি দেশে এমন নগ্ন ভাস্কর্য নির্মাণ সেইটা আবার মহিলা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অবস্থিত।
ভাবা যায় এগুলো?
অসম্ভব খারাপ কিছু ভালো লাগা!
আসুন জেনে নেই, ঐতিহাসিক মহীয়সি নারীর সেই ভাস্কর্য সম্পর্কে:
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা জমিদারির প্রতিষ্ঠাতা শ্রীকৃষ্ণ আচার্য চৌধুরীর তৃতীয় উত্তরপুরুষ রঘুনন্দন আচার্য চৌধুরী নিঃসন্তান ছিলেন। অথচ পিতৃতান্ত্রিক সমাজের সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, সম্পত্তি সংরক্ষণে সক্ষম একটি পুত্রসন্তান ভীষণভাবে প্রয়োজন। তাই দত্তক পুত্র গ্রহণের সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন তিনি। গৌরীকান্ত আচার্য চৌধুরীকে দত্তক নিলেন রঘুনন্দন। মৃত্যুর আগে দত্তক পুত্রের হাতে জমিদারির ভার অর্পণ করেন।
কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় এই যে তার ও কোনো সন্তান হয় না।
সেও পূর্বের তুলনায় সন্তান দত্তক নেন এভাবে ১৯৫২ থেকে ১৯০৫ সাল পর্যন্ত তাদের ঘরে কোনো সন্তান জন্ম গ্রহন করে না।
মাঝখানে তিনি ঊনবিংশ শতকের শেষপাদে ময়মনসিংহ শহরের কেন্দ্রস্থলে নয় একর ভূমির ওপর একটি অসাধারণ দ্বিতল ভবন নির্মাণ করলেন সূর্যকান্ত। নিঃসন্তান সূর্যকান্তের দত্তক পুত্র শশীকান্ত আচার্য চৌধুরীর নামে এই ভবনের নাম রাখা হলো শশী লজ। বিখ্যাত এই ভবনটি ১৮৯৭ সালের ১২ জুন গ্রেট ইন্ডিয়ান ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হলে অত্যন্ত ব্যথিত হন সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী। ১৯০৫ সালে ঠিক একই স্থানে নতুনভাবে শশী লজ নির্মাণ করেন পরবর্তী জমিদার শশীকান্ত আচার্য চৌধুরী।
যা পরবর্তীতে শশী লজের ভাষ্কর্য নামে আখ্যান পায়। শশীলজ, শুধু তাই নয় যা ময়মনসিংহের রাজবাড়ী নামেও সমধিক খ্যাত। শহরের কেন্দ্রস্থলে, ব্রহ্মপুত্র নদের অদূরে, এই রাজবাড়ী অবস্থিত।
বিঃ দ্রঃ যাহা ১৯৫২ সাল থেকে
"ময়মনসিংহ মহিলা টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার" হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।



No comments: